অধ্যক্ষের বাণী
আসসালামু আলাইকুম
মাদরাসা মানারুল হুদা গাজীপুরে অবস্থিত কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক পরিচালিত একটি আধুনিক আদর্শ কওমি মাদ্রাসা
আপনাদের জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, মহান আল্লাহ তাআলার মনোনীত জীবনবিধান ইসলাম—এর বিশুদ্ধ আকীদা ও সঠিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে, সমাজে সচেতন, জ্ঞানসম্পন্ন ও দাঈ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিছু মোখলেস বান্দার দীর্ঘদিনের সাধনা ও ত্যাগের ফল হিসেবে মাদরাসা মানারুল হুদা, গাজীপুর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি তাফাক্কুহ ফিদ্দীন — অর্থাৎ ইসলামের গভীর জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নবীর উত্তরাধিকারী (وَرَثَةُ الأَنْبِيَاء) তৈরি করার মিশনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য ইসলামের ভাষা আরবি-তে দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান আলিয়া ধারার শিক্ষাব্যবস্থায় এই লক্ষ্য অর্জন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, আর কওমি ধারায়ও আরবি ভাষা শিক্ষাদানের পদ্ধতি এখনো অনেকটাই সেকেলে, যা ভাষার চারটি দক্ষতা — শ্রবণ, বক্তৃতা, পাঠ ও লিখন — উন্নয়নে প্রত্যাশিত ফল দিতে পারছে না।
এই বাস্তবতা অনুধাবন করে আমরা সৌদি আরবের জামিয়াতুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ইনস্টিটিউটের ১৫ বছরের গবেষণালব্ধ পাঠ্যক্রম থেকে বাছাইকৃত বইসমূহকে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে আরবি ভাষায় সাবলীল, চিন্তাশীল ও কার্যকর যোগাযোগে সক্ষম হয়ে উঠবে— ইনশাআল্লাহ।
একই সঙ্গে, মাদ্রাসা মানারুল হুদা গাজীপুর কওমি ধারার ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষা বাংলা, আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি, এবং আধুনিক বিষয়সমূহেও দক্ষ করে তুলছে। ফলে তারা দ্বীনি ও দুনিয়াবি উভয় অঙ্গনে সমানভাবে সফল হতে পারবে।
আমরা বোর্ড পরীক্ষায় উৎকৃষ্ট ফলাফল এবং শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক, মানসিক ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
তাই আসুন, আপনার সন্তান, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের সন্তানদেরকে মাদ্রাসা মানারুল হুদা, গাজীপুরে ভর্তি করিয়ে নবীﷺ-এর উত্তরাধিকারী তৈরির মহান অভিযাত্রায় শরিক হই।

আব্দুল্লাহ আল ফারুক
অধ্যক্ষ, মাদরাসা মানারুল হুদা, গাজীপুর ।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
শির্ক ও বিদআত মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কোরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে যুগোপযোগী শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে তাকওয়া ও আখেরাত কেন্দ্রিক জীবন বোধ সৃষ্টি করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম সুযোগ্য আলেমে দ্বীন ও দক্ষ দায়ী হিসেবে গড়ে তোলা ।
শিক্ষা কার্যক্রম ওপাঠ পরিকল্পনা
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পাঠ পরিকল্পনার পাশাপাশি অধিকাংশ ক্ষেত্রে আহলে হাদীস তালিমী বোর্ডেরসিলেবাস অনুসরণ করা হয়েছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা মুতাওয়াসসিতা, সানাবিয়া ও কুল্লিয়া( দাওরায়ে হাদীস) পর্যায়ে আহলে হাদীস তালিমী বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীরা যেন সহজে দাখিল ও আলিমপরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে উদ্দেশ্যে ইংরেজি, গণিতসহ কিছু বিষয় আলিয়া সিলেবাসথেকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যুগোপযোগী ও মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী গঠনের লক্ষ্যে মাদ্রাসা মানারুল হুদায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। কওমি মাদ্রাসার সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান করা হলেও পাঠদানের পদ্ধতিতে আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞানের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।
দশম শ্রেণির সমাপন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যসূচির আওতায় অন্তত ১০ পারা কুরআন হিফজ সম্পন্ন করার সুযোগরাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক ও নৈতিক গঠন নিশ্চিত করতে নিয়মিত তারবিয়াহ ও নসিহাহক্লাস পরিচালিত হয়, যার মাধ্যমে নীতি-নৈতিকতা, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানে রয়েছে বিষয়ভিত্তিক উচ্চতর যোগ্যতা সম্পন্ন, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক মণ্ডলী।
আরবি ও ইংরেজি ভাষায় পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের জন্য ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভাষা বিভাগপরিচালিত হয়, যাতে তারা পরবর্তী শ্রেণিতে ভাষাগত দুর্বলতার কারণে পিছিয়ে না পড়ে।
দক্ষ বক্তা, আলোচক ও বিতার্কিক তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক কুরআনের আয়াত, হাদীস, বহু আরবি কবিতা ও নির্বাচিত মুতুনমুখস্থ করানো হয়।
আমাদের রয়েছে একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ পাঠ্যক্রম ও নির্ধারিত একাডেমিক ক্যালেন্ডারঅনুযায়ী প্রণীত লেসন প্ল্যান, যার মাধ্যমে সুচিন্তিতভাবে কোর্স পরিকল্পনা তৈরি করে পাঠদান সম্পন্ন করা হয়।
শিক্ষাবিজ্ঞানের আলোকে কোর্স বিন্যাস এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করেই নির্ধারিত সময়ে পাঠক্রম সম্পূর্ণ করা যায়।
যেসব শিক্ষার্থী শেখার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে, অপারগতা বা অনাগ্রহ প্রদর্শন করে, তাদের শিক্ষাগত দুর্বলতার কারণ নিরূপণ করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কাউন্সেলিংপরিচালনা করা হয়। ফলে তারা পুনরায় শিক্ষায় আগ্রহী ও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
আমাদের লক্ষ্য হলো—প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন কওমি ধারায় দাওরায়ে হাদীসসম্পন্ন করার পাশাপাশি দাখিল ও আলিমসার্টিফিকেট অর্জন করে, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে এমফিল, পিএইচডিসহ গবেষণামূলক কাজে অংশ নিতে সক্ষম হয়।
এছাড়া, তারা যেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রেআত্মবিশ্বাসের সঙ্গে টিকে থাকতে পারে, সেজন্য তাদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণপ্রদান করা হয়।
আমরা চাই, কোনো শিক্ষার্থী যেন সমাজের বোঝা না হয়ে ওঠে; বরং তারা যেন জ্ঞান, চরিত্র ও দক্ষতার সমন্বয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিবেদিত আলোকিত মানুষহিসেবে গড়ে ওঠে—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিন বছর মেয়াদি আরবি ভাষা কোর্সের বৈশিষ্ট্য
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পাঠ্যক্রম:
কোর্সটিতে সৌদি আরবের জামিয়াতুল ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ইনস্টিটিউট-প্রণীত ৩৩টি বই পাঠদান করা হয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরবি ভাষা শিক্ষার জন্য স্বীকৃত ও কার্যকর একটি পাঠ্যক্রম।
সহায়ক ইংরেজি ও গণিত শিক্ষা:
আরবি ভাষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ইংরেজি ব্যাকরণ ও স্পোকেন ইংরেজিতে দক্ষ করে তোলার জন্য একটি সুসংগঠিত সিলেবাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তাদের নবম ও দশম শ্রেণির মান অনুযায়ী প্রস্তুত করবে।
তদ্রূপ, বাছাইকৃত গণিতের পাঠ্যক্রম ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় গাণিতিক দক্ষতা অর্জন করবে।
বয়সোত্তীর্ণ ও বেসিক দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা:
যেসব শিক্ষার্থী হিফজ সম্পন্ন করতে গিয়ে বয়সে কিছুটা বড় হয়েছে এবং এখনো ইংরেজি ও গণিতের মৌলিক জ্ঞান—অর্থাৎ প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বেসিক দক্ষতা—সম্পূর্ণরূপে অর্জন করতে পারেনি, এই কোর্স তাদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে। নিয়মিত অনুশীলন ও ধাপে ধাপে নির্দেশনার মাধ্যমে তারা প্রাথমিক দুর্বলতা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উচ্চতর শিক্ষার পথে অগ্রসর হতে পারবে ইনশাআল্লাহ।
শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণ:
তিন বছরের পূর্ণাঙ্গ কোর্স শেষে শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষার প্রায় ১০,০০০এবং ইংরেজি ভাষার ৫,০০০শব্দভাণ্ডার আয়ত্ত করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।
ভাষার চার দক্ষতা অর্জন:
সিলেবাসটি এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা আরবি ও ইংরেজি ভাষায় শ্রবণ, বলা, পড়া ও লেখা—এই চারটি মৌলিক দক্ষতায় পারদর্শী হতে পারে।
আরবি হাতের লেখার বিশেষ প্রশিক্ষণ:
আরবি হাতের লেখাকে আকর্ষণীয় ও মানসম্মত করার জন্য চারটি বিশেষ প্র্যাকটিস বুকঅন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে আরবি লেখায় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
অনুবাদ দক্ষতা:
কোর্স শেষে শিক্ষার্থীরা আরবি যেকোনো টেক্সট সাবলীলভাবে পড়তে পারবে এবং আরবি থেকে বাংলা ও বাংলা থেকে আরবি অনুবাদেদক্ষতা অর্জন করতে পারবে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও গাইডলাইন:
এই কোর্সে পাঠদানকারী শিক্ষকগণের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত পাঁচটি শিক্ষক গাইডঅন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে পাঠদানের কৌশল, অনুশীলন পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এসব গাইড শিক্ষকদেরকে যথাযথভাবে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।